বাংলাদেশের পরিপেক্ষিতে অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য ফেসবুক পেজ একটি অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ যেকোন সময়ে একটি ফেসবুক পেজ খুলেই অনলাইনব্যবসা শুরু করতে পারে। শুরু করার জন্য ফেসবুক পেজকেই আমরা যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু নিজের ব্যবসাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং নিজস্ব পরিচিতি গড়ার জন্য ফেসবুক পেজ কখনোই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আপনার ব্যবসার জন্য আবশ্যক। এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব, আপনার অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার জন্য একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কেন জরুরি।

১। নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা

ফেসবুকের হাজার হাজার ফেসবুক পেজের ভীরে আপনার ব্যবসাকে আপনি কখনই একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। ইন্টারনেটের এই বিশাল জগতে আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটেই পারে আপনার ব্যবসাকে একটি ইউনিক পরিচয় দিতে এবং ব্র্যন্ড হিসেবে সবার সামনে প্রতিষ্ঠিত করতে। আমাজন, আলীবাবা, ফ্লিপকার্ট কিংবা আমাদের দেশের দারাজ, পিকাবো – এরা সকলেই নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এদের কাছে, ফেসবুক পেজ কেবলমাত্র একটি প্রমোশনের মাধ্যম।

২। কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন

অনলাইনে যারা কেনাকাটা করে তাদের সকলের ইন্টারনেট সমপর্কে অল্প-বিস্তর ধারনা আছে। কয়েক ক্লিকেই একটি ফেসবুক পেজ খুলে মুহুর্তের মাঝেই একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায় – এই বিষয়টি এখন একটি ওপেন সিক্রেট। আর এত সহজেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায় বলে এক শ্রেণীর মানুষ প্রতারণা করার বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। এখন প্রায় প্রতিনিয়তই সাধারন ক্রেতাদের প্রতারিত হবার কহব পাওয়া যায়। তাই সতর্ক ক্রেতাগণ শুধুমাত্র ফেসবুক পেজের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। এই অবস্থায় একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট, আমি আবারো বলছি – একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুব সহজেই একজন কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে।

৩। প্রোডাক্ট প্রদর্শনের সুব্যবস্থা

আপনার কাস্টমারদের আপনি যত দ্রুত, সহজে এবং সুন্দরভাবে বিভিন্ন প্রোডাক্ট দেখাতে পারবেন, আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির হার ততই বাড়বে। আপনার শত শত প্রোডাক্ট গুলোকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপনি কখনোই সুন্দরভাবে পদর্শন করতে পারবেন না। একইভাবে একজন ক্রেতার জন্য ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তার বাজেট এবং পছন্দ মত প্রোডাক্টগুলো খুঁজে পাওয়া একটি সময়সাপেক্ষ এবং বিরক্তিকর ব্যপার। অন্যদিকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্ট গুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং সাব-ক্যাটাগরিতে সুবিন্যস্তভাবে সাজিয়ে রাখতে পারবেন। একজন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করে কয়েক ক্লিকেই তার বাজেট এবং পছন্দ মত প্রোডাক্টগুলোকে খুঁজে নিতে পারবে। এর ফলে আপনার কাস্টমারগণ উপভোগ করবে একটি সুন্দর এবং আনন্দময় শপিং অভিজ্ঞতা।

৪। বিশ্বাসযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলে আপনাকে পেমেন্ট নিতে হবে ম্যানুয়ালী। ক্যাশ-অন ডেলিভারী এবং আর কিছু মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম (বিকাশ, রকেট ইত্যাদি) ছাড়া অন্যভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন না। আর এভাবে ম্যানুয়াল সিস্টেমে অনেক সচেতন ক্রেতাই আপনার সাথে লেনদেন করতে আগ্রহী হবেন না।কিন্তু ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি পেমেন্ট নিতে পারবেন অটোমেটিক্যালি। এছাড়া, মাস্টারকার্ড, ভিসা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট ব্যবস্থা থাকায় সকল শ্রেণীর কাস্টমাররা আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে।

৫। অটোমেটেড ব্যবসা

যেখানে অনলাইন মানেই অটোমেটেড সবকিছু সেখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ব্যবসা করে বেশিদূর এগোতে পারবেন কি? ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপনাকে ম্যানুয়ালী ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে যা আপনার ব্যবসা প্রসারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়াতে পারে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা হবে সম্পূর্ণ অটোমেটেড। একজন কাস্টমারের প্রোডাক্ট দেখা, ক্রয় করা, পেমেন্ট সম্পন্ন করা এবং একজন বিক্রেতার প্রোডাক্ট স্কট ম্যানেজ করা, বিক্রিত প্রোডাক্টগুলোর হিসাব নিকাশ ইত্যাদি যাবতীয় কাজ গুলো হবে অটোমেটেড।